মাদারীপুরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় সভাটি আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) মোছা. জেসমিন আকতার বানু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, গ্রাম আদালতের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। গ্রাম আদালতে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তাই ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে মানুষ যাতে থানায় বা আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান পেতে পারেন, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে গ্রাম আদালতের সুবিধাগুলো তুলে ধরতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোছা. জেসমিন আকতার বানু বলেন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের সভা, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, উঠান বৈঠক ও অভিভাবক সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। মসজিদের ইমামরা জুমার খুতবায় এবং পুরোহিতরা মন্দিরে গ্রাম আদালতের সুফল তুলে ধরতে পারেন।
তিনি গ্রাম আদালত কোন ধরনের মামলা গ্রহণ করতে পারে এবং কোন ধরনের মামলা গ্রহণ করতে পারে না—এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ ও সংশোধনী ২০২৪ অনুযায়ী বকেয়া ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলা নারীরা গ্রাম আদালতে করতে পারবেন—বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের আহ্বান জানান।
সভায় গত পাঁচ মাসসহ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এভিসিবি-৩ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আলিউল হাসানাত খান। তিনি জানান, মাদারীপুর জেলার ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে এপ্রিল ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৭৭৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ৪৮টি মামলা গ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সময়ে জেলায় মোট ৭৮২টি মামলা নিষ্পত্তি করে ৯৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার সাহেদ কবীর। এতে মাদারীপুর জেলার ডিআরটি সদস্য, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত এবং উপজেলা কো-অর্ডিনেটরসহ মোট ৩৫ জন অংশ নেন।







