ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দেওয়ায় এক কর্মচারীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী কালাইয়া সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কালাইয়া বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল হক, মো. মোশারেফ হোসেন ও মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাউফল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার, কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিসান, মো. সোহানসহ আরও কয়েকজনের চাঁদাবাজিতে তাঁরা অতিষ্ঠ। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজিমুক্ত ও নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ফার্নিচার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার তাঁর কাছে ছাত্রদলের নেতারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে কালাইয়া বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, গুড় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন তাঁরা। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে মারধর করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি সরকারি জায়গায় বসে গুড়ের ব্যবসা করেন। বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা ইয়াছিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। সরকারি জায়গায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর পক্ষে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁরা তা মানতে নারাজ। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে তিনি দোকান বন্ধ করে কালাইয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ল্যাংড়া মুন্সির সেতু এলাকায় পৌঁছালে ইয়াছিন ও সোহান তাঁর পথরোধ করেন। পরে তাঁকে একটু দূরে নিয়ে মারধর করে আহত করা হয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চাঁদা দাবি, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। সোহানও এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এটি জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র।’
কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিসানের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









