রাতের অন্ধকারে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙনকবলিত কারখানা নদীর তীরের মাটি কাটার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। এ সময় দুটি মাটি খননযন্ত্র ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।
আজ রোববার আটক দুই ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ঘাঘরিয়া গ্রামের আবদুল বারেক চৌকিদারের ছেলে মো. ইউসুফ (৩৬) এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানার সাইবের হাট এলাকার টুঙ্গিবাড়ি গ্রামের মো. হাফেজ হাওলাদারের ছেলে মো. কাওছার হাওলাদার (৩৫)।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের নদীর তীর থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার প্রস্তুতির সময় ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ইউসুফ ও কাওছার অভিন্নভাবে বলেন, গত তিন দিন ধরে রাতের আঁধারে এই এলাকা থেকে মাটি কেটে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ‘এম এম ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছেন তাঁরা। তাঁদের মাটি কাটার কাজে এনেছেন মো. দুলাল খান ও মো. মুশফিকুর রহমান।
দুলাল খান বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক ও জিয়ামঞ্চের জেলা কমিটির সহসভাপতি। আর মুশফিকুর রহমান বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়নের মাহাবুব হাওলাদারের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কৃষকদল নেতা দুলাল খান বলেন, ‘তিনি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নন। ফরিদপুরের মুশফিক মাটি কেটে ইটভাটায় দেন।’
বাকেরগঞ্জের এম এম ব্রিকস নামের ইটভাটায় মাটি দেওয়ার কথা স্বীকার করে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘কারখানা নদীর তীরের মাটি দুলাল খান কাটান। তবে গতকাল শনিবার রাতে তাঁর (মুশফিকুর) খননযন্ত্র নিয়ে ট্রলারে করে শ্রমিকেরা ওই এলাকা দিয়ে অন্য এলাকায় যাচ্ছিলেন। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ওই বিদ্যালয় এলাকায় ট্রলারটি নোঙর করলে স্থানীয় লোকজন দুজন শ্রমিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজিপুর গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে রয়েছে বাহেরচর বাজার, গোপালিয়া বাজার, কয়েকটি মসজিদ, মন্দির, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কয়েক শ ঘরবাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত গভীর হলেই ডাকাত দলের মতো নদীভাঙনকবলিত কারখানা নদীর তীরে ও চরে বিশাল আকৃতির মাটি খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। এসব মাটি বাকেরগঞ্জের অবৈধ ইটভাটায় নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এতে জড়িত থাকার কারণে তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। প্রশাসনকে জানালে দুর্গম এলাকার অজুহাত দেখিয়ে রাতে অভিযান চালানো হয় না বলেও অভিযোগ তাঁদের।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের নদীর তীরে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দুটি খননযন্ত্র ও একটি ট্রলারসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সত্যতা স্বীকার করে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইয়াকুব আলী রুবেল বলেন, তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের প্রায় তিন একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে নদীটি অবস্থান করছে। এভাবে রাতে নদীর তীর থেকে মাটি কাটা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো তাঁদের বাড়িটিও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি নদীর তীরে মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আটক দুই ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দুটি খননযন্ত্র ও একটি ট্রলার স্থানীয় কাছিপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সুমনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে, যা প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় ইউসুফ ও কাওছারকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।









