রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বসতবাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের আলম খানের বাড়িতে।
স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করে ফেলে। পরে তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বাড়ির মালিক মো. আলম খান (৫১), আয়শা বিবি (৭৫), মাছুমা বেগম (৪৫), মো. রাসেল (৩০) ও হাফসা বেগম (২৫)। তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজন বাড়ি ফিরলেও আয়শা বিবি ও মাছুমা বেগমের তখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি বলে স্বজনরা জানান।
ভুক্তভোগী মো. আলম খান বলেন, তিনি ধান কেনাবেচার ব্যবসা করেন। প্রতিদিনের মতো রাতে পরিবারের সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত কেউ ঘুম থেকে না উঠলে বাড়ির অন্য সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। শব্দে তার ঘুম ভাঙলেও তিনি প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন। পরে ঘরের ভেতরে আলমারি ভাঙা এবং আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, দুর্বৃত্তরা দোতলার দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে চেতনানাশক স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করার পর আলমারিতে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা নগদ, প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
আলম খানের ছোট ভাই বজলু খান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন পরিবারের সদস্যরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘরের আলমারি ভাঙা এবং মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##









