কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আলিপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি গঠনে অনিয়ম, প্রতারণা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি—একটি প্রভাবশালী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে “ব্যবসায়ী সমিতি” গঠনের নামে প্রতারণা করছে এবং বাজারকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কমিটির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—“একটি সাধারণ ব্যবসায়ী কমিটি গঠনে এত টাকায় ফরম বিক্রি করার প্রয়োজন কী? এটি যেন কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনের মতো প্রহসন।”
৭ নং লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
“আলিপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির তফসিল ঘোষণার নামে একটি মহল ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করছে। তারা ব্যক্তিস্বার্থে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।”
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পূর্বে একজন আহ্বায়ক ও ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার কাজ ছিল বাজারের ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা তৈরি করা। কিন্তু তালিকা তৈরির পর কিছু ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করছে এবং নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে।
চেয়ারম্যান বলেন, “বাজারের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে বেসরকারি সমিতি গঠনের চেষ্টা টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসনের অন্তরায় হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ‘ব্যবসায়ী সমিতি’ নামে তফসিল ঘোষণা করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য বাজারে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও মাস শেষে চাঁদা আদায় করা।”
মিজানুর রহমান বলেন, “যদি সমিতির নির্বাচন হয়, তবে তার আগে বৈধ রেজুলেশন, সদস্য তালিকা ও মাসিক চাঁদা প্রদানের রেকর্ড থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে কোনো সমিতিই নেই—তবু নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।”
তিনি স্বীকার করেন, “আমি একজনকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি মিথ্যাচার করে ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করছেন।”
চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন, “খুব শিগগিরই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আলিপুর বাজারের বৈধ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং বাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।”
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাজার কমিটি হবে। সে অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০ টাকা ফি দিয়েছিলাম। এখন শুনছি বেসরকারিভাবে সমিতি গঠন হচ্ছে—এটা এক ধরনের প্রতারণা।”
বাজারের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নামে ফরম ফি নেওয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে এটি ‘ব্যবসায়ী সমিতি’। তাহলে কেন ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করা হলো?”
এ বিষয়ে নিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে নই। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি বেসরকারি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া তদারক করছি, এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়।”
এদিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হবেন। ব্যবসায়ীরা চাইলে আলাদা ব্যবসায়ী কমিটি গঠন করতে পারেন, তবে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন নয়।”









