পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (মনির খান)-এর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার প্রায় দুই মাস পর বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম আব্দুল খালেক খানের ছেলে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালীতে মোট নয়টি মামলা ছিল। প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থাকার সময় কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় তিনি মুক্তি পাননি।
মনির খানের স্ত্রী, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসাম্মদ সালমা জাহান জানান, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্বামী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৪ জুন আইসিইউতে নেওয়া হয়। দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ জুলাই সর্বশেষ মামলায়ও তিনি জামিন লাভ করেন। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, পরে হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার আর কোনো উন্নতি হয়নি।
মনির খানের চাচা আব্দুল কালাম আজাদ জানান, মৃত্যুর পর পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বহালগাছিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, মনির খানের ছেলে সালমান বলেন, “আমি লন্ডনে থাকায় নিজের বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। অথচ বাবার সঙ্গে আমি কত শত জানাজায় অংশ নিয়েছি। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতবাসী করেন।”









