শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দিতে আজ থেকে প্রথমবারের মতো সারাদেশে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে। এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে সরকার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনা মূল্যে এই টিকা দেবে।
এরই লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে ৪,৮০,২৭৮ জন শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সকল ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে খুব সহজেই অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করে নেওয়া যাবে এই টিকা। সম্পূর্ণ শতভাগ হালাল ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত এই টিকা প্রদান করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকা ভিত্তিক স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলা পর্যায়ের পরামর্শ সভায় এ তথ্য জানায় সিভিল সার্জন।
জেলার আটটি উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কমিউনিটি পর্যায়ে এ টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকদের সহায়তায় টিকাদান কার্যক্রম যেন শতভাগ সফল হয়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে বাউফলে স্কুলে ৬৫,২৮৪ জন ও কমিউনিটিতে ৩৫,০০২ জন সহ মোট ১০০,২৮৬ জন, দুমকিতে স্কুলে ১৫,৪৯৩ জন ও কমিউনিটিতে ৫,৩৮০ জন সহ মোট ২০,৮৭৩ জন, দশমিনায় স্কুলে ২৭,৮০১ জন ও কমিউনিটিতে ১৪,৩১৪ জন সহ মোট ৪২,১১৫ জন, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে স্কুলে ৬৭,২১১ জন ও কমিউনিটিতে ৩৮,৮৮৪ জন সহ মোট ১,০৬,১০০ জন, কলাপাড়ায় স্কুলে ৪৭,৪১৯ জন ও কমিউনিটিতে ২৩,৯২১ জন সহ মোট ৭১,৩৪০ জন, মির্জাগঞ্জে স্কুলে ২১,৫২৮ জন ও কমিউনিটিতে ১১,৪৮৫ জন সহ মোট ৩৩,০১৩ জন, পটুয়াখালী পৌরসভায় স্কুলে ১৯,৫৩২ জন ও কমিউনিটিতে ৬,৮০০ জন সহ মোট ২৬,৪৩১ জন, পটুয়াখালী সদরে স্কুলে ৪৯,৫৬৮ জন ও কমিউনিটিতে ৩০,৫৫২ জন সহ মোট ৮০,১২০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও এই টিকার আওতায় থাকবে যাতে কেউ বাদ না পড়ে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকা, যা সরকার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় এই টিকা পাবে। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা পাবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।
সরকারের লক্ষ্য- এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে, এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো চালু রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ক্যাম্পেইন সফল হলে টাইফয়েড প্রতিরোধে বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত এ ব্যাধি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় এটি হবে সরকারের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।









