পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১৪ নম্বর মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে অশালীন আচরণ, মানসিক হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) এবং কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে ফেরদৌস আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল তার সঙ্গে অশালীন মন্তব্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। বিদ্যালয়ে একমাত্র নারী শিক্ষক হওয়ায় তিনি প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক উচ্চস্বরে মোবাইলে ভিডিও চালান। এছাড়া তিনি কমনরুমে নামাজ আদায় করতে গেলে সেখানে অবস্থান করেন, যা তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এ ধরনের আচরণের কারণে এর আগে বিদ্যালয়ের কয়েকজন নারী শিক্ষকও অন্যত্র বদলি নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র বলেন, “সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার বিষয়টি আমাকে একাধিকবার জানিয়েছেন। আমি শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালকে কয়েকবার সতর্ক করেছি এবং আচরণ সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছি। এখন বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।”
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”









