বাগেরহাটে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচ বন্দির পুনর্বাসনের জন্য সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার সকালে বাগেরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাগেরহাট জেলা কারাগারের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা প্রবেশন অফিস এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘ বছর কারাভোগের পর মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি এবং কচুয়া উপজেলার আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম, চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আবু সাদ্দাত, জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শেখ শহিদুর রহমানসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা কারাগার এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচ বন্দির হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি জালাল শেখ বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। মুক্তির পর আজ একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
অপর মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এটি দিয়ে সৎভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়।’ তিনি আরও বলেন, সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্তদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।









