জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি, বেগবান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাবেক সভাপতি এনামুল হক এবং ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা এবাদত হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনোলজিস্ট এবিএম আনিসুল হক।
অনুষ্ঠানের সভাপতির ডাঃ সুব্রত কর্মকার
বলেন,মায়ের দুধ একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ও সর্বোত্তম খাদ্য। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিশু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পায় এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটে। একই সঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও মাতৃদুগ্ধ পান করানো অত্যন্ত উপকারী।
তিনি আরও বলেন,
“বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের লক্ষ্য হলো পরিবার ও সমাজের সব স্তরে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রত্যেক মা যেন পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান তা নিশ্চিত করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
“একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপিত হয় শিশুর জন্মের পর থেকেই। তাই মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মায়েদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো শিশু মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত না হয়।
তিনি আরও বলেন,
“সরকার মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের তাৎপর্য এবং শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা হয়।









