কুয়াকাটায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা ক্রয়কৃত জমি, দলীয় কার্যালয় ও মার্কেট দখলের অভিযোগ এনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আইনানুগভাবে জমি বুঝে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কুয়াকাটা পৌর শাখা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ৩৪ নম্বর লচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এসএ ৫১৭৮, ৫১৮০ ও ৫১৮৪ নম্বর দাগের জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আরজ আলী শেখ। ওই জমির অংশ থেকে ১৯৬৫ সালে ১৮০৭ নম্বর সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ১.৩৩ একর জমি আঃ আলী শেখ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে আঃ আজিজ মুসুল্লী, আলী আহম্মেদ শেখ, আঃ মন্নান (ময়নুদ্দিন) ও নুর আলম শেখ যৌথভাবে ৫৮৫ নম্বর সাব-কবলা দলিল মূলে ২১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এছাড়া ২০০৯ সালে একই সম্পত্তির আরও ৭৫ শতাংশ জমি নুর আলম শেখের নামে নিবন্ধিত হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সেখানে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণের পাশাপাশি বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির কার্যালয় দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে অনুমতি ও আইনগত অধিকার ছাড়াই জমিতে মাটি ভরাট এবং সামনের অংশে মার্কেট নির্মাণ করে অবৈধ দখল করে নেয় বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে তার ক্রয়কৃত জমি দখলেরও অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৫ সালে বৈধ দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৭৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। কিন্তু ২০০৯ সালে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি কাজী আলমগীর ওই জমি ও মার্কেট দখল করে তাদের উচ্ছেদ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিএনপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, জমি রক্ষার চেষ্টা করলে তারা হামলা, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়, যার ফলে দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকতে হয়েছে তাদের।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধ চাই না। আমরা আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। বৈধ দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভূমি প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের প্রতি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগভাবে তাদের ক্রয়কৃত জমি ও দলীয় কার্যালয় বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, “ওই জমি আমার নয়। জমিটির মালিক আমার ভাতিজা বেলাল। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিলন মিয়ার স্ত্রী উর্মির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন। এরপর থেকে বেলাল ওই জমির মালিক হিসেবে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সুতরাং, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”








