পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলার প্রায় ১১ গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ছয় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়ক ছাড়াই। নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর নকশাগত ত্রুটি ধরা পড়ায় ২০২০ সাল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ইটের ব্লক দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সিঁড়ি ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাঁশবাড়িয়া-বগী খালের ওপর ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা। কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের শেষদিকে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ায় পুরো প্রকল্প থমকে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগী বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। প্রায় ২০ ফুট উঁচু সেতুতে ওঠানামার জন্য স্থানীয়রা ইটের ব্লক দিয়ে অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করেছেন। প্রতিদিন সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই বছরের পর বছর ধরে সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে দুই উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হাই বলেন, “সেতুর নকশা ঠিক না করেই কীভাবে টেন্ডার দেওয়া হলো? ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর নকশা ভুল ধরা পড়া এলজিইডির চরম অব্যবস্থাপনা। এই ভুলের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।”
আরেক বাসিন্দা মশিউর রহমান লাবু বলেন, “সংযোগ সড়ক না থাকায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।”
জৈনকাঠি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, “শিক্ষার্থীরা কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো ইটের ব্লকের সিঁড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করে। এতে প্রায়ই তারা আহত হয় এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও কমে যাচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, “আমি যোগদানের আগেই এ নকশা করা হয়েছিল। মূল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর নকশাগত ত্রুটি ধরা পড়ে। বর্তমানে নতুন নকশা অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।”
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”









