পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের কবর রচনা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করলে কিছু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু মাদকের বিস্তার থেকেই যায়। তাই মাদক নির্মূলই হতে হবে আমাদের লক্ষ্য।”
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বাউফল উপজেলা অডিটোরিয়ামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বিষয়ক শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ ফিরোজ, বিএনপি নেতা গাজী মো. গিয়াস উদ্দিন ও খোকন, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জলিলুর রহমান, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাউফল সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি এম. জাফরান হারুন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, ধান্দি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. হাবিবুল্লাহ এবং বাউফল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক মো. সায়েমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচিত হলে ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেব। জনগণ আমাকে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে প্রমাণ করেছে—বাউফলের মানুষ মাদকমুক্ত সমাজ চায়। আমি জাতীয় সংসদেও মাদক নির্মূলের দাবি তুলেছি।”
তিনি বলেন, “অনেক মানুষ বদলাতে না চাইলেও একজন মানুষও জাতির জাগরণে ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের সচেতন মানুষ যদি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বাউফলকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।”
আইনের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান শুধু আইন দিয়ে হয় না। আইন মানুষকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করে। কিন্তু ভালো থাকার সিদ্ধান্ত প্রত্যেক মানুষকেই নিজ থেকে নিতে হবে। সহনশীলতা ও সহমর্মিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে না পারলে কেবল আইন দিয়ে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার সম্পর্কে তিনি বলেন, “একটি সংবাদের শিরোনাম পরিবর্তন করেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায় এবং প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। তাই কোনো সংবাদ যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার করা উচিত নয়।” তিনি পবিত্র আল-কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রচার করা গুনাহের কাজ, আর সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করা ইবাদতের শামিল।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকদের এমন মর্যাদা ও পেশাগত মান বজায় রাখতে হবে, যাতে কেউ তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সুযোগ না পায়। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে পারলে বাউফলও এগিয়ে যাবে।”
মাদকবিরোধী অভিযানে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি ঘোষণা দেন, “যে কেউ উপযুক্ত প্রমাণসহ মাদকের তথ্য দিয়ে অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্য দিতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে তার দায়িত্ব প্রথমে আমি নেব।”
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা, নৈতিক শিক্ষা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও তাদের শিক্ষা দিতে হবে। এসব বিষয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, মাদক নির্মূলে ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষক, ইমাম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাউফলকে একটি নিরাপদ, সচেতন ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই আমাদের এই উদ্যোগ সফল হবে।”









