
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ একর ৯১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোবারক আলী হাওলাদারের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য ও মাদ্রাসাশিক্ষক আবু তালেব ইভান মাতুব্বর।
শনিবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়টির দখলে থাকা প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। আদালতের একাধিক রায় তাদের পক্ষে থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো জমি বুঝিয়ে দেয়নি। বরং উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইভান মাতুব্বর জানান, ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে মোবারক আলী হাওলাদারের উত্তরাধিকারীদের কাছে জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৭ সালে প্রথম ধাপে ১৫ একর ৮৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ১৮ একর ৯১ শতাংশ জমি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জমি ফেরত পেতে তাদের পরিবার ১৯৯৫ সালে টাইটেল মামলা এবং পরে আপিল মামলা দায়ের করে। নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও তাদের পক্ষে রায় বহাল রাখেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে নতুন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জমির একটি অংশ সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ৬৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। জমিটি বিদ্যালয়ের দখলেই রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জমি ফেরত দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো হয়নি।”
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।








