পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সেবাগ্রহীতারা।
জানা গেছে, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মোঃ নাজমুল হাসান ২০২২ সালের ১৭ জুলাই অন্যত্র বদলি হওয়ার পর থেকে এ অফিসে কোনো নিয়মিত উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার পদায়ন করা হয়নি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মোঃ সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একসঙ্গে তিনটি উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিসারের দায়িত্বে থাকায় সপ্তাহে মাত্র মঙ্গলবার কাউখালী অফিসে উপস্থিত থাকতে
পারেন।এদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের পাশাপাশি একজন অডিটর, একজন কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অফিসের কাজের চাপ বেড়ে গেছে এবং বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা
দিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত মঙ্গলবার যদি অনলাইন সার্ভারে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ বিল-ভাউচার পাস হতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার সহ শূন্য পদগুলো অবিলম্বে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান,
প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার পরও নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। অনেক সময় এক সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করতে হয়। এতে অফিসের আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক অফিসের ভুক্তভোগীরা
বলেন, বেতন ও অন্যান্য বিল পাস করাতে বারবার হিসাবরক্ষণ অফিসে আসতে হয়। কর্মকর্তা সপ্তাহে একদিন অফিস করায় অনেক সময় ফিরে যেতে হয়। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার মোঃ সাদ্দাম হোসেন সিরাজী বলেন,
আমি বর্তমানে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে একজন কর্মকর্তার পক্ষে একাধিক উপজেলার সব কাজ একই সঙ্গে দ্রুত সম্পন্ন করা কঠিন। নিয়মিত কর্মকর্তা ও শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নিয়মিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হলে সেবার গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ভোগান্তিও কমে আসবে।









