দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনায় একই বাড়ির নারী-শিশুসহ ৬ জনকে কুপিয়ে রক্তত্ব জখমের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্য তিন জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আট বছরের শিশু সাফায়েত হোসেন মারা যায়। অপর আহতরা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সবুজ মৃধা(৩০) নামে এক যুবক গাছের মগডালে আশ্র নেয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরহোসনাবাদ গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বাড়ি ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
স্থানীয় ইউপির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক জানান,‘গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে একই বাড়ির মাদকাসাক্ত যুবক সবুজ মৃধা তাঁর বাড়ির শিশু মুহিত হাসান(৮) ও তাঁর মা মোসা. মরিয়ম (২৮),পঞ্চমআলী সরদার(৪৭),বাবুল সরদার(৪৭),মোসা. নাছিমা বেগম(৩২) এবং সাফায়েত হোসেন(৮)কে ধারালো দা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। এসময় আহতদের ডাক-চিৎকারে পাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান’।
ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন,‘আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে যাওয়া হলে ওখানকার চিকিৎসক ডা. রাহুল বিন হালিম দুই শিশু সাফায়েত ও মুহিত হাসান এবং মুহিত হাসানের মা মরিয়মের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বরিশাল নেয়ার পথে জামাল বেপারীর শিশু সন্তান সাফায়েত হোসেন মারা যান। এসময় আহত শিশু মুহিত ও তাঁর মা মরিয়মকে বরিশাল নেয়া হয়। অপর আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে’।
স্থানীয় কবির চৌকিদার বলেন,‘সবুজ মৃধা ওরফে মনির দীর্ঘদিন থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। যে কারণে তাঁর মতিগতি বোঝা দায় ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবুজ বাড়িতে ঢুকেই যাকে সামনে পেয়েছে-তাঁকেই কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এরপর লোকজনের উপস্থিতি দেখে সবুজ একটি গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। রাতে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাঁকে গাছ থেকে নিচে নামান’।
দশমিনা সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন জানান,‘ঘটনায় জড়িত সবুজ মৃধা ৬৫ থেকে ৭০ ফুটের একটি চাম্বল গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। এসময় কয়েকটি গাছ কাটা হলে সে গাছ পরিবর্তন করে নিরাপদে চলে যায়। এসময় চারটি গাছ কাটা হয়। পরে চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাঁকে নিচে নামানো হয়’।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান,‘ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এরপর জড়িত সবুজকে গাছের মগডাল থেকে নামাতে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতা নেই। এরপর রাতে সবুজকে গাছ থেকে নিচে নামিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়’।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর সবুজ নিজে গাছের মগডালে আশ্রয় নিয়ে তাঁর হাতে থাকা দা দিয়ে নিজের হাত ও শরীরের একাধীক স্থান ক্ষত করেছে। যে কারণে তাঁকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলমান।









