বরগুনার আমতলীতে হযরত ইসমাইল শাহ্ (রঃ) মাজার আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে একদল দুবৃত্ত্ব।
শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ২-৩ জনের একটি দুবৃত্ত্বের দল কেরোসিন ঢেলে মাজারে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাজারে থাকা এক ভক্ত টের পাওয়ায় তার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় ওই দুবৃত্ত্বের দল।
শুক্রবার রাত ৩টার সময় আমতলী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে ওই ঘটনা ঘটে। এর আগেও ওই মাজারে হামলা করে ভাংচুর ও অগিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
মাজারের ভক্ত ও খাদেমরা জানান, আমতলী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে ১৯৯৬ সালে হযরত ইসমাইল শাহ (রঃ) মাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ২ ও ৩ তারিখে ওই মাজারে বাৎসরিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসে ভক্ত অনুরাগী দর্শনার্থীসহ বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে।
২০২৫ সালের ১৮ মার্চ সোমবার গভীর রাতে ওই মাজারকে ইসলাম বিরোধী ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতার ব্যানারে মাজারে হামলা ও অগিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর শুক্রবার গভীর রাতে ফের মাজারে অগিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
মাজারের পাসে বসবাসরত এক ভক্ত মো. সেকান্দার আলী বয়াতি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাহিরে মাজারের সামনে আসেন। ওই সময় তিনি দেখতে পান মাজারের উত্তর পাশের জানালা দিয়ে একদল দুবৃত্তরা মাজারের ভিতরে পীরের কবরের উপর ঢাকা গিলাবে আগুন ধরিয় দিয়েছে। ওই সময় তিনি ডাক চিৎকার শুরু করলে দুবৃত্তরা তখন পালিয় যান।
ওই সময় তার ডাক চিৎকার শুনে আরো কয়েকজন প্রতিবেশী এগিয়ে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এরমধ্যে পীরের কবরের উপর ঢেকে দেওয়া গিলাবের আংশিক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ভক্ত সেকান্দার আলী বয়াতি বলেন, মাজারের সামানেই আমার বাসা। রাত আনুমানিক ৩টার সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য মাজারের সামনে গেলে দেখি ২-৩ জন লোক জানালা দিয়ে মাজারের ভিতরে পীরের কবরের গিলাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুন জ্বলা দেখে আমি ডাক চিৎকার দিয়ে ধাওয়া দিলে তারা পালিয় যায়।
মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, খবর পেয়ে ওই রাতেই মাজারে গেয়ে দেখি কবরের উপর ঢেকে দেওয়া গিলাবের একটি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছে দুবৃত্তরা। মাজারের মধ্য করোসিন ছড়িয়ে রয়েছে। কে বা কাহারা আগুন দিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। ওই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইয়াকুব হুসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। অভিযাগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#









