পটুয়াখালীর বাউফলে যুবক নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০)কে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় বিএনপির তিন নেতাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দিয়েছেন।
সোমবার পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন মৃধা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক নওরিন করিম তদন্তের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বদলুল হক বাদল জানান, মামলায় বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে আলী আজম ও মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে নাসির উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাউফলে আনা হয়। পরে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাঁর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে।
চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন পেশায় একজন কৃষক। তাঁর একটি গরুর খামারও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে তিনি এলাকায় ফিরতে পারছেন না এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী ও মাসুম বিল্লাহ। তাঁদের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গত শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।









