রিয়াদ মাহমুদ, কাউখালী (পিরোজপুর): পিরোজপুরের কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল নির্ধারণ এবং বিলের কাগজ যথাসময়ে গ্রাহকদের হাতে না পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরাসরি গ্রাহকের হাতে না দিয়ে পাশের দোকান বা প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিলের কাগজ না পাওয়ায় বিল পরিশোধে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত সুদ গুনতে হয়।
উপজেলার কচুয়াকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, আমাদের সাধারণত মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিল আসে। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। এত বেশি বিল কেন এসেছে বুঝতে পারছি না।
একাধিক গ্রাহক জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাবি, অনেক সময় মিটার রিডিং সঠিকভাবে না নিয়ে অনুমানের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের জন্য বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, অনেক সময় মাস শেষ হওয়ার পর বিল হাতে পাই। এতে সময়মতো বিল পরিশোধ করতে সমস্যা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে বলে মনে হয়।
গ্রাহকরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বিদ্যুতের বিল সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে হবে এবং সঠিক মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কাউখালী পল্লী বিদ্যুৎ ইন চার্জ কামাল হোসেন বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মিটার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল বিল হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মিটার রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









