এস এইচ রতন, বাগেরহাট: অপরাধীদের অভয়ারণ্য দেশের আরেক সলিমপুর হচ্ছে সুন্দরবন। সারা বছরই বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা এই বনের বাঘ হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারে মেতে থাকে চিহিুত ১৫০ জন শিকারী। সক্রিয় এসব বন্যপ্রাণী শিকারী চিহ্নিত করে একটি চুড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে বন বিভাগ।
চিহ্নিত এই শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকাটি সরবরাহ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে তালিকাভুক্ত এই শিকারীদের। তার পরও থামছেনা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী শিকার।
তবে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দাবি, বিগত বছরের তুলনায় গত এক বছরে অনেকটাই কমেছে বন অপরাধ। বনরক্ষীদের কঠোর অভিযান এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় অনেকটা কোনঠাসা পয়ে পড়েছে বন অপরাধীরা। এর ফলে উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজসম্পদ লুটপাটের প্রবনতা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে জীববৈচিত্র্যের আধার ও পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন।
বাগেরহাটের পূর্ব বন বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২০২৫ সালের মে মাস থেকেই চলমান রয়েছে ফুট পেট্রোলিংসহ বন অপরাধ প্রতিরোধের নানা অভিযান। বর্তমান সময় পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়েছে ৪৭৪টি অভিযান। এসব অভিযানে ৩৯৬ জনকে আসামি করে বন আইনে মামলা হয়েছে ২৪১টি।
এরমধ্যে ৩৭৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। এসব অভিযানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পেতে রাখা বিভিন্ন ধরণের এক লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় শিকালীদের পেতে রাখা ফাদসহ তাদের কাছ খেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৭টি হরিন ও একটি রয়েল বেঙ্গল টাইটার।
একই সাথে জব্দ করা হয়েছে ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস, ৪৪৮টি ট্রলার, ১০০টি নৌকা, ৮ হাজার ৩৮১টি অবৈধ কাঁকড়া ধরা চারু, ৩০০ ফুট মাছ ধরা জাল, অবৈধভাবে আহরিত ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৭২৪ কেজি বিষ দিয়ে ধরা মাছ, ৯৬ বোতল বিষ (কীটনাশক), পাঁচ প্যাকেট বিষাক্ত পাউডার, বিষ প্রয়োগে ধরা চিংড়ি শুকিয়ে তৈরী করা ২২ বস্তা শুঁটকি এবং অবৈধভাবে আহরিত এক হাজার ৬৬ কেজি কাঁকড়া।
বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যে সুন্দরবনের হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১৫০ জন শিকরাীকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাটি ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেকটাই কমেছে বন অপরাধ। বিগত ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বনরক্ষীদের নিয়মিত ফুট পেট্রোলিংসহ টহল ও অভিযানের কারণে এসেছে এই সফলতা। দুগম এই বনে নিয়মিত অভিযান অব্যহত থাকলেও বন্যপ্রাণী শিকার শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়নি।
তবে, বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালে ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে বন অপরাধ শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও জানান এই কর্মকতার্।









