মোঃ বেলাল হোসেন, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল): বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা হলো বিথি আক্তার (১৪), মারুফ খান (১৪), তানজিলা আক্তার, সারা মনি (১৪), তাজু (১৪), মাহিন (১৪), সুমাইয়া (১৪), ইশরাত (১৪), সাদিয়া (১৪), লামিয়া (১৪), অন্তরা (১৪) ও জিসান (১৪)। বাকি দুই শিক্ষার্থীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হাসপাতাল ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ব্যাগে থাকা ‘ওয়াইল্ড স্টোন (WILD STONE)’ ব্র্যান্ডের একটি বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে গিয়ে এবং ঘটনাটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপসর্গে আক্রান্ত হয়।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ খান জানান, তাদের সহপাঠী তাওসিফের ব্যাগে থাকা বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে আসা অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একে একে অসুস্থ হয়ে যায়।
শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দ্রুত বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক শিক্ষার্থী বডি স্প্রে ব্যবহারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অন্যদের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজিত চন্দ্র ঢালি বলেন, “শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র একটি বডি স্প্রে ব্যবহারের কারণে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এর সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বা সাইকোলজিক্যাল প্রভাব জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। বাকেরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।









