মোংলা উপজেলার জয়মনির ঠোট এলাকার ব্রাক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘আদর্শ গ্রাম’টি বর্তমানে মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন থাকায় সেটি এখন যাতায়াতের অযোগ্য। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন জোয়ারের পানি কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সড়কটি সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকাবাসী এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর তাণ্ডবে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র কিছু সংস্কার কাজ করলেও তা দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাজে আসেনি। এরপর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর কোনো টেকসই পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই ভয়াবহ অবস্থার কারণে মোংলা বন্দরের অন্তর্ভুক্ত জয়মনির ঠোটার একমাত্র ঘাটটিও বর্তমানে পুরোপুরি অকেজো ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , জয়মনি বাজার সংলগ্ন এই এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। রাস্তাটি জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকায় প্রতিদিন কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অভিভাবকই দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আল আমিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ার কারণে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন ছাত্রছাত্রী স্কুল ও মাদ্রাসায় আসতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র ৫০০ মিটার সড়কের এই বেহাল দশার কারণে কেউ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েকশত পরিবার।
এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার এবং উঁচু করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।









