রিয়াদ মাহমুদ, কাউখালী (পিরোজপুর): পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ইজিএস শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা কাজে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীসহ পাঁচটি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ থাকলেও ২০২৩ সালের পর থেকে কোনো স্থায়ী কর্মচারী কর্মরত নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দিয়ে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মাধ্যমে সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
কর্মচারীর অভাবে শ্রেণিকক্ষ ও বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজানো, দরজা-জানালা খোলা ও বন্ধ করা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে নৈশ প্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ে একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরই অনেক সময় শ্রেণিকক্ষ খোলা-বন্ধ এবং ঘণ্টা বাজানোর মতো কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী না থাকায় আমাদের শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ক্লাসরুম খোলা-বন্ধ করা, ঘণ্টা বাজানোসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত কাজ করছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমরা নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, ইজিএস শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বর্তমানে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলে শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারী ও শিক্ষক সংকট চলতে থাকলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।









