পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জেলার সকল পৌরসভার সভাপতি ও সেক্রেটারিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সকাল ৮টায় পটুয়াখালী শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর হলরুমে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আল কায়ছারী। পবিত্র কুরআন থেকে দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা মজলিসে শূরা সদস্য ও কলাপাড়া উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম।
শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবুল হাসান মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবুল হাসান মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “ছাত্রজীবন শেষ করে প্রথমবারের মতো পটুয়াখালীতে আসলাম। আমি মনে করি, আমার জন্য নেক কাজের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা হলো আমাদের সংগঠন।
আমাদের সংগঠনের মৌলিক কাজ তিনটি—দাওয়াত, সংগঠন ও সংঘবদ্ধতা। আজ অনেকেই আমাদের সমালোচনা করে, কিন্তু বাস্তবে তারা আমাদের অনেক কর্মসূচি অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যে বৈজ্ঞানিক, সুশৃঙ্খল ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দর্শন সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ.) উপস্থাপন করেছিলেন, তার কার্যকর বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি এমন একটি চিন্তা ও দর্শন দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো যুবসমাজের চিন্তা-চেতনার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো।” এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান।
এ ছাড়া শিক্ষাশিবিরে ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন পটুয়াখালী সাংস্কৃতিক সংসদ।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির সমাপনী পর্বে বিকেল ৫টায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও পটুয়াখালী জেলা আমির মো. নাজমুল আহসান। তিনি সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ শিক্ষাশিবিরের মাধ্যমে পৌরসভা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও আদর্শিক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে এবং সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের আদর্শিক, সাংগঠনিক ও নেতৃত্ব বিকাশে দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন পৌরসভার সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশগ্রহণ করেন।









