সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বজ্রপাতে মানুষের পাশাপাশি প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক গবাদি পশুর মৃত্যু হচ্ছে, যা খামারি ও কৃষকদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
গত ২৬ মে (মঙ্গলবার) দশমিনা উপজেলায় বজ্রপাতে একটি গাভী মারা যায়। এর আগে ২৯ শে এপ্রিল রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৫০ টি গরু বজ্রপাতে মারা যায়।এ সময় ৪ ব্যক্তি নিহত হন।
সচেতনতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা গবাদি পশুকে এই আকস্মিক বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, বজ্রপাত থেকে গবাদি পশু রক্ষায় বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা গাছের নিচে না রাখার জন্য বলা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি বা মেঘের গর্জন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই খোলা মাঠ বা চারণভূমি থেকে গবাদি পশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কোনো একক বড় গাছের নিচে পশু বেঁধে রাখা যাবে না। কারণ, উঁচু গাছে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং সেই গাছের নিচে থাকা পশু ‘সাইড ফ্ল্যাশ’ বা মাটি দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের কারণে মারা যেতে পারে।গবাদি পশুর শেড বা গোয়ালঘরটি যেন সুরক্ষিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গোয়ালঘরের চাল টিনের হলে অবশ্যই তাতে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে হবে এবং তা সঠিকভাবে মাটির সাথে আর্থিং করে দিতে হবে। বজ্রপাতের সময় গোয়ালঘরের ভেতরের পরিবেশ যেন শুষ্ক থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।
গোয়ালঘরের আশপাশে বা ভেতরে থাকা লোহার খুঁটি, তারের বেড়া, বা ধাতব পাইপ থেকে গবাদি পশুকে দূরে রাখতে হবে। ধাতব বস্তু দ্রুত বিদ্যুৎ পরিবহন করে, তাই বজ্রপাতের সময় এগুলো পশুর সংস্পর্শে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় গবাদি পশুকে কোনো পুকুর, খাল, বিল বা প্লাবিত নিচু জমিতে রাখা বা চড়ানো যাবে না। পানি অত্যন্ত ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় জলাশয়ের আশপাশে বজ্রপাতের আঘাত তীব্রতর হয়। মাঠে বা শেডে অনেকগুলো গবাদি পশুকে খুব কাছাকাছি বা একই শিকলে/দড়িতে শক্ত করে বেঁধে রাখা উচিত নয়। কোনো কারণে একটি পশুর ওপর বজ্রপাত হলে বা মাটি দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে কাছাকাছি থাকা অন্য পশুগুলোও একসঙ্গে মারা যেতে পারে।
যদি কোনো পশু বজ্রপাতে আক্রান্ত হয় এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল থাকে, তবে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত পশুকে শুষ্ক স্থানে রেখে শরীর হালকা গরম কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত হার্ট ও ফুসফুসের কার্যকারিতা সচল রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।








