ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দুঃস্থ, হতদরিদ্রদের মাঝে সরকারের দেয়া বিশেষ ভিজিএফএর চাল বিতরণে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের সিল সই দেওয়া স্লিপ ব্যবহারের একটি খবর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। এনিয়ে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন। গত দুইদিন ধরে এটি ঘুরপাক খাচ্ছে। এনিয়ে অনেকে বলছেন এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। কেউ বলছেন প্রভাব খাটিয়ে দরিদ্রদের চালে ভাগ বসিয়েছেন। এমনটি অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দোকানপাটে, চায়ের দোকানেও আলোচনা সমালোচনা চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কাজ কর্মে প্রভাব বিস্তারের কথা বলেছেন অনেকে। দলের নিজস্ব অনেক সমর্থকরা আবার এটি করা ঠিক হয়নি বলে তীর্যক মন্তব্যও করেছেন।
তবে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি দরিদ্রদের চাল যথাযথভাবে বিতরণের কাজে ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করছেন। এটি তার সরকারের (এমপি সাহেবের) বিশেষ বরাদ্দ তাই এমনটি করেছেন। সরকারের দেয়া ওই চাল ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ছিল। তার সই সিল দেয়া কাগজের স্লিপও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রবের মাধ্যমেই বিতরণ করার কথা বলেন। তার দাবি তিনি বিশেষ ভিজিএফএর (বরাদ্দের) চাল বিতরণ কমিটির সদস্য। তিনি অন্তত ৩০০ স্লিপ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। মূলত সঠিকভাবে বিতরণে নজরদারির কথা জানান তিনি। তবে আইনগতভাবে এটি ভুল হয়েছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি। তোফাজ্জেল হোসেন এও বলেন, ‘ মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ কাজের জন্য এই স্লিপ ব্যবহার করেছি।’
উপজেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দি প্যাদা বলেন, ‘ মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফএর চাল দরিদ্র মানুষের মাঝে তালিকা করে সভাপতির সই-সিল দেয়া স্লিপ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ঈদের ভিজিএফএর চালের সঙ্গে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোকসেদুল আলম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (‘দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার’) নির্দেশনা মতে বরাবরের মতো এবছর সরকার ঈদ-উল-আযহা (২০২৬) উপলক্ষ্যে দূঃস্থ/অতিদরিদ্র ব্যক্তি/পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ১০ কেজি করে চাল (সরকারিভাবে) বরাদ্দ দেয়া হয়। যেখানে কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার জন্য ২৭ হাজার ৮৬৩টি পরিবারের জন্য সরকার এই বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মধ্যে টিয়াখালী ইউনিয়নে ১৩৬৫ জনের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে চাল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, ভিটাবাড়ি ছাড়া জমি নেই, দিনমজুরী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, মহিলা শ্রমিক, ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবীকা নির্বাহ করেন, যে পরিবারে উপার্জনক্ষম পুর্ণবয়ষ্ক কোন পুরুষ সদস্য নাই-এমন পরিবার/ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের জন্য সরকারিভাবে কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়নে ৪০ টন চাল দেওয়া হয়েছে- দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য। যেখানে চার হাজার পরিবার খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন।









