মোঃ মহিম ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট): সুন্দরবনে নতুন ডাকাত দল গঠনের আগেই আত্মসমর্পণকৃত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অষ্টম বারের মতো পরিচালিত অভিযানে আত্মসমর্পণে অনিচ্ছুক ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ‘চাচা-ভাইরপো’ নামে একটি নতুন ডাকাত দল গঠন করে পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ওই দুই সদস্য। তারা রূপসা খেয়াঘাট ও কাটাখালীর মোড় এলাকায় অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা ৭টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোঃ নাজমুল শেখ (৩৫) ও হানিফ শেখকে (৪২) আটক করে।
এসময় তাদের কাছ থেকে ‘চাচা-ভাইরপো’ নাম সম্বলিত ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত ৫০০টি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে সুন্দরবনের সেলা নদীর বটতলার খাল এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি পাইপগান, ১টি খেলনা পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত দুইজন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সঙ্গে জড়িত থেকে সুন্দরবনে ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। গত ১৭ মে বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর তারা নতুন নামে আবারও সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।








