সাইদুর রহমান খান, দুমকী: পটুয়াখালীর দুমকীতে লুথার্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদে তাহিরা মুরতাজা নামে একজন চিকিৎসক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও ভুল চিকিৎসা, রোগীদের অহেতুক পরীক্ষা নিরীক্ষা, প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা, নরমাল ডেলিভারি না করে সিজার করাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী লুথার্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ এর নিজস্ব ওয়েব সাইট ও বিডি জবস্.কম প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেখানে আবেদনকারির ডিজিও/ এফসিপিএস ডিগ্রির কথা বলা থাকলেও ডাঃ তাহিরা মুরতাজার কোনটিই ছিলোনা। তিনি ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল উক্ত পদে আবেদন করেন এবং কতৃপক্ষ বোর্ড গঠন করে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ডা. তাহিরা মুরতাজাকে নিয়োগকালীন যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেন। ০১ জুন ২০২৫ তারিখ ডা. তাহিরা দুমকীতে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন।
ইভানজেলিক্যাল লুথারান চার্চ ইন আমেরিকা ( ইএলসিএ) এর গ্লোবাল মিশন ইউনিটের অর্থায়নে পটুয়াখালীর দুমকীতে লুথার্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ ( এলএইচসিবি) ১৯৯৩ সালে উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, প্যাথলজি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি পরিচালনা করে।
হাসপাতালটি ১৯৯৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শুরু করে শুরুরদিকে বেশ সুনামের সাথেই কাজ করে আসলেও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মধ্যে অন্ত:কোন্দলে কর্মকর্তা কর্মচারিদের দীর্ঘদিন বেতনভাতা বন্ধ থাকা, কর্মী ছাটাই নিয়ে দ্বন্ধে চরম অস্থিরতার মধ্যে পরিচালক হেলেন রেমা চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
এরপর ২০২৩ সালে গ্রেনার মারাক এসে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরলেও গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগকালীন যোগ্যতা না থাকা ডা. তাহিরা মুরতাজাকে নিয়োগ দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ডা. তাহিরা মুরতাজার বায়োডাটা অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যেসকল যোগ্যতা চেয়ে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছিল তা তাঁর না থাকলেও পেয়ে বসেছেন বিশেষজ্ঞ পদ।
দেখা গেছে তিনি বিশেষজ্ঞ না হয়েও সিজারসহ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বছর ১৩ জুলাই ফাহিমা আক্তার নামে এক গর্ভবতী রোগীর সিজার করতে গিয়ে মুত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত করলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। রোগীর স্বজনদের সাথে সমঝোতা করে এবং ভুল চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এবছরের ২১ ফেব্রুয়ারী অপরিণত বয়সী নবজাতককে সিজার করলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তিনি পটুয়াখালী হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং সেখান থেকে বরিশাল। বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়ার পথে নবজাতকটি মারা যায়।
এ নিয়েও তুমুল বিতর্ক শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড.গ্রেনার মারাক ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে নিজস্ব তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা মওকুফ করেন। যদিও গ্রেনার মারাক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ঘুরিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ডা. তাহিরা মুরতাজার কাছে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
লুথার্যান হেলথ কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক ড. গ্রেনার মারাকের কাছে ডা. তাহিরা মুরতাজার নিয়োগের বিষয়ে জানান, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তালিকায় তৃতীয় নম্বরে থাকা প্রার্থীকে কেন নিয়োগ দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান এক ও দুই নম্বরে থাকা প্রার্থীরা অনেক বেশি সম্মানী দাবি করেছেন যা আমাদের জন্য প্রদান করা ব্যয়বহুল।
দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, ওই ডাক্তারের নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানেননা। তবে কাঙ্খিত ডিগ্রি ছাড়া তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেননা।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, ডা. তাহিরা মুরতাজার নিয়োগের বিষয়টি তার জানা নাই। পিজিটি করা থাকলে ছোট খাটো অপারেশন তিনি করতে পারবেন কিন্তু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিতে পারবেন না।









