ঢাকার তৃণমূল পর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারে ১৭টি সংগঠনের হাতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে “পার্টনার্স ফর প্রোসপারিটি” প্রকল্পের দ্বিতীয় বর্ষের শেষ পর্যায়ের অনুদান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে চারটি কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
মুসলিম চ্যারিটি ইউকে এবং অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছরে ঢাকা বিভাগের ১৭টি তরুণ সংগঠনকে প্রকল্পভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অনুদানের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ টাকা। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনজিও শাখা) মুঃ মাহবুব-উল-আলম। এছাড়াও অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত অনেক সংগঠন সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। “পার্টনার্স ফর প্রোসপারিটি” প্রকল্প সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে তরুণ সংগঠনগুলোর জন্য একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুঃ মাহবুব-উল-আলম বলেন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মুসলিম চ্যারিটির অনুদান তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রকল্পটির মহতী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, এই সহায়তা স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা মুসলিম চ্যারিটি ইউকে ও অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগেও প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।









