নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের সবাই মারা গেছেন। সর্বশেষ শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ সায়মা বেগমের (৩২) মৃত্যু হলে পরিবারটির শেষ আশাটুকুও নিভে যায়।
নিহতদের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামে। নিহতরা হলেন আবুল কালাম (৫০), তার স্ত্রী সায়মা বেগম এবং তাদের তিন সন্তান মুন্নি (১০), মুন্না (৮) ও কথা (৭)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভাব-অনটনের কারণে আবুল কালাম স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার দুই দিন আগে বাসার গ্যাস পাইপে লিকেজ দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
গত রোববার সকালে আবুল কালাম সিগারেট ধরাতে দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দগ্ধ হন আবুল কালাম, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার প্রথমে মারা যান আবুল কালাম। এরপর বুধবার মেয়ে কথা, বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে মুন্না এবং বিকেলে মেয়ে মুন্নি মারা যায়। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মারা যান সায়মা বেগম।
এর আগে আবুল কালামকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হলেও আর্থিক সংকটের কারণে বাকি চারজনের মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। পরে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো বাউফলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা বিষয়টি জেনেছি। আগামীকাল সকালে চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।








