মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা: পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় গরু চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে কালাম মৃধা নামের একজনকে আটক করেছে জনতা। পরে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড চরঘূর্ণী গ্রামের আকন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক কালাম মৃধা গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড মৃত. কাদের মৃধার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রনগোপালদী ইউনিয়নের চরঘূর্ণী গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলামের তিনটি গরু লালনপালন করেন। একটি গরু শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অন্য দুটি গরু ঘরের সামনে উঠানে মশারির মধ্যে রাখেন। বুধবার রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাহিরে এলে শিকল বাঁধা গরুটি দেখতে পান মশারির মধ্যেও গরু দেখতে না পেয়ে ডাকচিৎকার করতে করতে নদীর পাড়ে যান।
তার ডাক চিৎকারে এলাকার চৌকিদার/দফাদার সহ দেড়শ থেকে দুইশত লোক জড় হয়ে গরু খোঁজতে থাকে। পরে নদীর পাড়ে পায়ে জোর দেওয়া অবস্থায় গরু দুটিকে পায়। কালাম নামের একজনকে পাতা বনের মধ্যে লুকানো অবস্থায় পায় আবং লোকজনের সমাগমে একজন ট্রলার নিয়ে পূর্বদিকে চলে যায়।
পরে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়রা দশমিনা থানায় মোবাইল করলে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে কালাম মৃধাকে প্রধান আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
প্রতক্ষদর্শী মোঃ আলমগীর বেপারী জানান, কয়েকদিন যাবত এলাকাকে থেকে গরু চুরি হচ্ছে। আমরা সকলে চোর ধরার জন্য ওতপেতে ছিলাম। বুধবার রাতে স্লুইস বাজার ডাকচিৎকার শুনে ছুটে আসি শুনতে পাই সাইফুল ভাইর দুটি গরু চুরি হয়েছে। আমরা প্রায় ১-২শত লোক খোজার পর নদীর পাড়ে জোড় দেওয়া অবস্থায় গরু পাই আর দেখি একটি ট্রলার নদীর পূর্ব দিকে চলে যাচ্ছে।
পরে কালাম মৃধাকে পাতা বনে পানির মধ্যে নাক উপরে রেখে শরীরের অন্য অংশ তলিয়ে রাখে। তাকে উদ্ধার করে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে এবং বলেন তার সাথে দশমিনা উপজেলা রনগোপালদীর রবিউল, চরকলমির রিদয় এবং চরবিশ্বাসের মিরাজ ছিলো। পরে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেই।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার সময় সাইফুল ইসলামের তিনটি গরুর মধ্যে দুটি গরু কালাম মৃধা, মিরাজ, রবিউল ও রিদয় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল এলাকার লোকজন চার দিক থেকে ঘিরে ফেললে মিরাজ, রবিউল ও রিদয় পালিয়ে যায়।
কালাম মৃধা পালানোর জন্য পাতা বনে আশ্রয় নিলে এলাকার লোক জন ধরে ফেলে উত্তমমাধ্যম দেয়। পরে দশমিনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে কালাম মৃধাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। গরু চুরির ঘটনায় মালিক সাইফুল ইসলাম কালাম মৃধাকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহম্পতিবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় দশমিনা থানা পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।
গরুর মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় মাস কয়েক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। আমার তিনটি গরু একটি কোরবানির বাজারে বিক্রি করার জন্য সহ আরো দুটি গরু লালন-পালন করছি। ঘরের সমানের উঠানে একটি গরু শিকল দিয়ে বাঁধে রাখি অপর দুটি সাধারণ খাবে রাখি। রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাহিরে আসলে শিকলে বাঁধা গরুটি দেখে অপর গরু দুটি না দেখে ডাক চিৎকার করতে করতে নদীর পাড়ে যাই সাথে সাথে এলাকার লোকজন পরে।
নদীর পাড় থেকে দুটি গরু পাই এবং তার পাশেই পাতা বনে কালাম মৃধাকে লোক জন পায়। কালাম মৃধাকে এলাকার লোকজন উত্তমমাধ্যম দিলে চুরির ঘটনা স্বীকার কওে তার সাথে আমাদেও এলাকার রবিউল, চরবিশ্বাসের মিরাজ, চারকরমির রিদয় জড়িত। তারা লোকজনের আলাপ পেয়ে পালিয়ে যায়। আমি কালাম মৃধাকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার সময় উপজেলার চরঘূর্ণী থেকে মোবাইল আসে গরু চুরির সময় এক জনেকে আট করেছে স্থানীয় জনগন। এই খবরে পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ পাঠিয়ে কালাম মৃধা নামের একজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে কালাম মৃধাকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে গরু চুরির মামলা করেন। কালাম মৃধাকে বৃহসম্পতিবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বাকী আসমীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








