রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের টুংগিবাড়িয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীতে যান। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে একই গ্রামের মো. আলাউদ্দিন খলিফা ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ঘটনার সময় তার চার বছর বয়সী শিশু সন্তান ঘরের ভেতরে উপস্থিত ছিল। শিশুটি তার মায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। চার বছরের সন্তান বিষয়টির বর্ননা দেয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন খলিফা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং পরবর্তীতে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত আলাউদ্দিন খলিফা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন অমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহিন আমি তাদের বাড়িতে যাইনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙ্গাবালী থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরে ওসি স্যারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুনেছি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। আমি কোনো সালিশ করার কথা বলিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, ওসি তাকে সালিশের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ওসি স্যার এসে আমাকে সালিশের জন্য প্রস্তাব দেন। আমার স্বামী গরিব মানুষ। মামলা করতে টাকা লাগে এ কথা চিন্তা করে আমি সালিশে রাজি হই। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ করার কথা বলে তারা চলে যান। ভুক্তভোগীর স্বামী মো. রহমান তালুকদার বলেন, আমি একজন গরিব জেলে। নদীতে মাছ পেলে সংসার চলে, না হলে না খেয়ে থাকতে হয়। আমার পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। এমন ঘটনার পর আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









