রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মাসুদ মোল্লা:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কেউর হাওলা ও ভাঙ্গারখাল এলাকার বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কার করতে গিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০০ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বন বিভাগের সবুজ বনায়ন প্রকল্প। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় গাছের মালিক ও উপকারভোগীরা।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ সংস্কারের সময় নিয়ম না মেনে গাছগুলো এস্কক্যাভেটর যন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলার পর তা স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা যে যেভাবে পারছে উপড়ে ফেলা গাছ নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন আরো অভিযোগ করে বলেন,বন বিভাগের কর্মকর্তা শোয়েব খান টাকার বিনিময়ে স্থানীয় কিছু লোকজনকে বেরিবাদের গাছ দিয়েছে। কিছু অসহায় লোক আছে তার কাছে গাছ চাওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে দেয় নাই। অর্থাৎ গরিব লোকজন টাকা দিতে পারে নাই বিদায় তাদেরকে গাছ দেয় নাই। তিনি মার্কিন করা গাছ বিক্রি করে খেয়েছে। আমাদের দাবি যে সমস্ত গাছগুলো স্থানীয় লোকজন কেটে নিয়ে গেছে। সেগুলো যেন উদ্ধার করে সরকারি রাজস্ব খাতা নিয়ে যায় হোক।
সরেজমিন দেখা যায়, দক্ষিনে মৌডুবীর ভাঙার খাল থেকে উত্তরে কেউর হাওলা থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রাবনাবাদ নদীর তীরে সড়কের পাশে লাগানো মেহগনি, রেইনট্রি, চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারের লোকজন এস্কক্যাভেটর যন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলার পর তা এসব গাছ ভেঙে-চুড়ে মাটি গর্তে ও ফসলি জমিতে ফেলে রেখেছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছর ও ২০১০-২০১১ অর্থবছরে পাউবোর অনুমতি নিয়ে মৌডুবীতে বেড়িবাঁধে ৬০ কিলোমিটার অংশ বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ইউনিয়নের দক্ষিনে মৌডুবীর ভাঙার খাল থেকে উত্তরে কেউর হাওলা পর্ন্ত থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি অংশে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলছে। উপকারভোগীরা বাঁধা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা শুনছেন না।
সবুজ বনায়ন প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. আক্কাস ফরাজী বলেন, ‘গাছ লাগানোর পর থেকে আমরা এর রক্ষণাবেক্ষণ করেছি। বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে গিয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০০ বড় আকারের গাছ উপড়ে ফেলেছে। আমি ও অন্য উপকারভোগীরা বাধা দিলেও তারা তা আমলে নেয়নি। পরে বন বিভাগকে জানিয়েছি। কিন্তু গাছ উপড়ে ফেলা বন্ধ হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপড়ে ফেলা এসব গাছের বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকার মতো হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও এখনও একাজ বন্ধ করতে না পারলে আরো বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো কাটা বা অপসারণের পাউবো আমাদের সময় না দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে গাছগুলো উপড়ে ফেলেছে, যা নিয়মবহির্ভূত। তিনি জানান, বন বিভাগের নিলাম ডাকার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। প্রতিবছর চারবার নিলাম ডাকতে পারে বন বিভাগ। আমাদের সর্বশেষ নিলাম হয়েছে চলতি বছর ১০ জানুয়ারি। আর পাউবো গাছ অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছে ২৬ জানুয়ারি। চিঠি পাওয়ার পর গাছের মার্কি করা হয়েছে। নিলাম ডাকার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েএখন জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় অনুমোদন নিয়ে গাছ নিলামে দিয়ে অপসারণ করা হবে। কিন্তু এর আগেই ঠিকাদার কোন ধরনের সময় না দিয়েই গাছ উপড়ে ফেলছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. জামাল বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশেই কাজ শুরু করেছি। বৃষ্টির আগেই কাজ শেষ করতে হবে। তবে তারা বন্ধ রাখতে বললে কাজ বন্ধ করা হবে।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজের জন্য গাছগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিন মাস আগে বন বিভাগকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বন্যাপ্রবণ। আবার সামনে বর্ষা মৌসুম। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। তবে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে, সামনে আর কোনো গাছ যেন উপড়ে ফেলা বা নষ্ট না করা হয়।









