মোঃ মহিম ইসলাম, মোংলা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের গভীরে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়ংকর বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন মৌয়াল বাবলু গাজী (৪৮)।
মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে এনেছেন তাঁরই সঙ্গীরা। লাঠিসোঁটা হাতে প্রায় ১৫ মিনিট বাঘের সঙ্গে লড়াই করে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন অন্য মৌয়ালরা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খাল সংলগ্ন বনে।
রবিবার (১০ মে) সকাল আটটার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাবলুকে লোকালয়ে আনা হয়। পরে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত বাবলু গাজী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মালেক গাজীকে সঙ্গে নিয়ে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন তিনি।
মৌয়াল দলের নেতা ইউসুফ গাজী জানান, বৈধ পাস নিয়ে ১১ সদস্যের একটি দল গত বুধবার সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রোববার সকালে পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধুর চাক খুঁজছিলেন তাঁরা। বাবলু গাজী একটু সামনে এগিয়ে গেলে আচমকাই ঝোপের আড়াল থেকে একটি বাঘ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
“মুহূর্তেই চারপাশ কেঁপে ওঠে চিৎকারে। আমরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। প্রায় ১৫ মিনিট মানুষ আর বাঘের মধ্যে লড়াই চলে। পরে বাঘটা বাবলুকে ছেড়ে জঙ্গলের ভেতরে চলে যায়,”—
কাঁপা কণ্ঠে তার বাবা বলেন, ছেলের ওপর বাঘের ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য এখনো ভুলতে পারছেন না।সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান শরিফুল ইসলাম জানান, আহত বাবলুর শরীরে একাধিক ক্ষত রয়েছে। তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে। মৌয়ালরা বলেন মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া মানেই মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে পথচলা। কখনো বাঘ, কখনো কুমির, আবার বনদস্যুদের আতঙ্ক— বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন এবং আহত মৌয়ালের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।









