মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা: রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় র্যাবের পোশাক পরে ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক পলাতক আসামীকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত ১ টার সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি-ডিবি) ও দশমিনা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপালদী নিজাবাদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মো. রাসেল (৩৮) ওই গ্রামের নুর ইসলাম মাতবরের ছেলে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা মহানগরের চকবাজার থানার শেখ হায়দার বঙ্গ লেন এলাকার বাসিন্দা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. সালমান মাহবুব জয় (৪০) ভালো দর পাওয়ার প্রত্যাশায় একটি ব্যাগে নগদ ৩২ লাখ টাকা ও ৮ লাখ ৭৯ হাজার থাই বাথ নিয়ে উত্তরার আজমপুর এলাকায় আমির কমপ্লেক্সে জামান মানি এক্সেচেঞ্জে যাচ্ছিলেন। মতিঝিল থেকে মেট্রোরেলে উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছে অপরিচিত এক যাত্রীর সাথে তিনি একটি শেয়ারিং অটোরিকশায় ওঠেন।
বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে তুরাগ থানার উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজের উত্তর-পূর্ব পাশে খেলার মাঠ এলাকায় পৌঁছালে র্যাবের পোশাক পরিহিত ৭ জন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে অটোরিকশাটি থামায়। তারা ব্যবসায়ী জয়ের ব্যাগ তল্লাশী করতে চাইলে তিনি ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধাওয়া করে আটক করে আওয়ামীলীগের দোসর বলে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গাড়ির ভেতরে তাকে মারধর করে দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে দুই চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং মুখে কাপড় ঢুকিয়ে রাখা হয়। এ সময়ে তার কাছে থাকা ওই নগদ টাকা, থাই বাথ ও আইফোন-১৩ প্রো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর পূর্বাচল ৯ নম্বর সেক্টরের একটি নির্জন স্থানে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে চোখের বাঁধন খুলে পরিবারের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়। আহত অবস্থায় তিনি প্রথমে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পরদিন ২৬ এপ্রিল ভুক্তভোগী সালমান মাহবুব জয় বাদী হয়ে তুরাগ থানায় সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ, প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মচারি কর্তৃক ব্যবহৃত পোশাক পরিধান ও প্রতীক ধারণ এবং ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, ডিএমপি’র অনুরোধে যৌথ অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিএমপি তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, মামলার তদন্তভার বর্তমানে ডিবির কাছে রয়েছে। তিনি জানান, ডিবি পুলিশ ইতোমধ্যে একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।









