রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর): আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার খামারগুলোতে এখন চলছে ব্যাপক ব্যস্ততা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা কোরবানির পশু লালন-পালনে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যে উপজেলার ৭২৪ জন খামারি কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে মোট ১ হাজার ৫৩১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। এরমধ্যে ষাঁড় গরু ৬৪২টি, বলদ গরু ২০০টি, ছাগল ৬০২ টি ।
অন্যদিকে উপজেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১ হাজার ৪৫০টি গবাদিপশুর। এতে করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের এলাকাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রকারভেদে প্রতিটি গরুর দাম ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত।
উপজেলার উল্লেখযোগ্য খামারিদের মধ্যে রয়েছেন, দাসেরকাঠি গ্রামের হেলাল খান, বাশরী গ্রামের খামারি হাফেজ লোকমান হোসেন, উঝিয়ালখান গ্রামের উত্তম মৃধা এবং নিলতি গ্রামের বেলায়েত হোসেন ও আয়রন গ্রামের জসিম উদ্দিন।
দাসেরকাঠি গ্রামের খামারি হেলাল খান বলেন, সারা বছর অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। ঈদকে কেন্দ্র করেই আমাদের সবচেয়ে বড় আশা থাকে। তবে এবার পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচও বেড়েছে। তারপরও ভালো দাম পেলে কিছুটা লাভ হবে বলে আশা করছি।
বাশরী গ্রামের খামারি হাফেজ লোকমান হোসেন জানান,এখন মাঠে ঘাস কম পাওয়া যায়। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে দানাদার খাবার কিনে গরু পালন করতে হচ্ছে। খরচ বেশি হলেও আমরা চেষ্টা করছি সুস্থ ও ভালো মানের পশু বাজারে তুলতে।
আয়রন ঝাপসি গ্রামের খামারি মোঃ জসিম উদ্দিন জানান,আমাদের অধিকাংশ খামারি খড়, ভুসি ও দানাদার খাবারের উপর নির্ভরশীল। খাবারের দাম কম হলে খামারিরা আরও লাভবান হতে পারতো। খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। গো-খাদ্য ক্রয় করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমা সরকার বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। খামারিদের গবাদিপশুর রোগবালাই সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার কাউখালী উপজেলায় পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশুর সরবরাহ থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রাণিসম্পদ দপ্তর সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ ও সুস্থ পশু বাজারজাত নিশ্চিত করতে আমাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।









