মোঃ মহিম ইসলাম মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলায় এক মাস ধরে মিরাজ শেখ নামে এক যুবকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর পরিবার সংবাদ সম্মলনে দাবি করেছে। গত ১০ এপ্রিল সাদা পোশাকে এসে কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে কোস্টগার্ড এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মিরাজ শেখের (৩২) বাড়ি মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকায়। ৮ মে (শুক্রবার) মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মিরাজের বোন লিজা আক্তার। এ সময় মিরাজের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম ছাড়াও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে লিজা আক্তার বলেন, মিরাজ শেখ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি নদীতে পোনা মাছ আহরণ করে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। তাঁর ৬ বছরের একটি ছেলে আছে।
মিরাজের পরিবারের দাবি, ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনী ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মিরাজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দোকানের পাশেই পড়ে ছিল। কয়েক দিন পর গভীর রাতে কোস্টগার্ডের লোকজন এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিখোঁজের পরদিন ১১ এপ্রিল মিরাজের স্বজনেরা কোস্টগার্ডের মোংলার দিগরাজ বেজে যান। সেখানে সারাদিন অপেক্ষা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে কোস্টগার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে পুলিশ অপারগতা জানায়। পরে গত ২৩ এপ্রিল মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুন কারও নাম উল্লেখ না করে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার ময়নাডারে সবার সামনে ধইরা নিয়ে গেছে। যদি অপরাধ করে থাকে, আইনের মাধ্যমে বিচার হোক। কিন্তু আমার ছেলেডা কোথায়; বেঁচে আছে, না মরে গেছে–এটুকুও তো জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেডারে ফেরত চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, মিরাজ শেখ কোথায় আছেন; তিনি জীবিত কিনা– দ্রুত প্রকাশ্যে আনতে এবং তাঁকে খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে শিগগিরই হাইকোর্টে রিট করা হবে।
মিরাজের স্ত্রীর করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার এসআই আবু হানিফ কামাল বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিরাজ শেখ আদৌ নিখোঁজ হয়েছেন কিনা– তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে এ ঘটনায় কোস্টগার্ড কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সাজিয়ে বাহিনীর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।









