মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: মোংলা উপজেলার হলদিবুনিয়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পোল্ট্রি ফার্মের তিনটি বড় ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এতে খামারের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মুরগি, মুরগির খাদ্য ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বুধবার (৬ মে ) রাত ১ টায় হলদিবুনিয়া এলাকার কোরবান আলীর পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎতের শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা খামারের তিনটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশ ও গোলপাতার তৈরি ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত বিধ্বংসী রূপ নেয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনের তীব্রতায় ঘরগুলো প্রায় পুরোপুরি পুড়ে মুরগি ও খাবারসহ ছাই হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন কিন্তু ততক্ষণ খামারি কোরবান আলীর সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খামারের মালিক জানান, তিনটি ঘরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মুরগি ছিল, যার সবই আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ ফিড (মুরগির খাদ্য) এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতিও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলে তাদের আসতে দেরি অনেকটা দেরী হয়। ”আমার সারা জীবনের সঞ্চয় এবং এনজিও থেকে ঋণী এই বিশাল বড় খামারটি তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলাম। চোখের সামনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি নিঃস্ব।
চিলা ইউনিয়নের জামাতে ইসলামীর আমির আনিসুর রহমান বলেন, কোরবার আলীর এই খামারটি ছিল মোংলার ভিতর অন্যতম একটি বড় খামার। তার প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লক্ষ টাকা সম্পদ আগুনে পুড়ে ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন তাকে সহায়তার জন্য সরকার এবং এনজিওর এগিয়ে আসাতে হবে। তা না হলে নতুন করে আর উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে না।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পোল্ট্রি খাতের নিরাপত্তার জন্য এলাকায় অগ্নি-নির্বাপক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।








