জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা বলেছেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, পানিনিষ্কাশন সংকট ও কৃষি অনিশ্চয়তায় ভোগা পটুয়াখালীর মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে বৃহৎ খাল পুনঃখনন কার্যক্রম। এই উদ্যোগে যেমন জনজীবনে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থান ও আর্থিক সুবিধার নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তাই মধ্যসত্ব ভোগী বা হয়রানি হওয়ার ভয় নেই। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বহুমাত্রিক সুবিধা পাবে।
বুধবার (৬ মে) সকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চন্ডিপুর ন্যাপ্তি বাড়ি সুইজ থেকে দক্ষিণে ধরান্দি ডিগ্রি কলেজ ভায়া মাঝি বাড়ি হয়ে ইসলামিয়া নুরানি মাদ্রাসা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে পটুয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা এবং বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা হবে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৩০১ টাকা। প্রায় তিন কিলোমিটার এ খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রশাসন পটুয়াখালী সদর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পারিশ্রমিক পাবেন, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে। খাল খননের মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে অর্থনৈতিক সুফলও বয়ে আনবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত বলেন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচএম মাহবুব জানান, খালটি পুনঃখনন হলে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।
কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মৃধা বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় কৃষক ফারুক মৃধা বলেন, আগে বর্ষায় জমি পানিতে ডুবে যেত, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষ করা যেত না। এখন খাল খনন হলে দুই সমস্যারই সমাধান হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, জলাবদ্ধতায় আমাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো, এখন কাজটি শেষ হলে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবো বলে আশা করছি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো কাজ শেষ হলে এই প্রকল্প পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নের একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।









