হায়াতুজ্জামান মিরাজ: বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকতার্দের যোগসাজশে দুই একর জমি অবৈধভাবে দখল করে মাছরে ঘের নিমার্ণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে মাটিকাটা বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কতৃপক্ষ একটি নোটিশ দিয়েই দায় এড়াচ্ছেন। মূলতঃ পাউবো কর্মকতার্দের যোগসাজশেই চলছে ওই দখলের মহোৎসব
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট নিশানবাড়িয়া মৌজার নলবুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দুই একর জমি দখল করে মাটি কাটার যন্ত্র (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দা সিদ্দিক হাওলাদার, মোস্তফা বিশ্বাস, সোহরাফ হাওলাদার, লাল মিয়া হাওলাদার ও আঃ হক মিয়া।
সংবাদ পেয়ে গত ০১ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সরকারী জমি দখল ও মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য শুধুমাত্র একটি নোটিশ দিয়েই দায় এড়িয়েছেন। ওই নোটিশ পাওয়ার পরেও দখলদাররা দাপটের সাথেই খননযন্ত্র দিয়ে তাদের ঘের নিমার্ণের কাজ চালিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ মূলতঃ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকতার্দের যোগসাজশেই জমি দখল ও ঘের নিমার্ণের কাজ করছেন দখলদাররা।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল হাওলাদার, সেলিম চৌকিদারসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমিতে খননযন্ত্র (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে মাছের ঘের নিমার্ণ করতেছেন একাধিক প্রভাবশালীরা। বিষয়টি আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকতার্দের একাধিকবার জানিয়েছি। কর্মকতার্রা শুধুমাত্র একটা নোটিশ পাঠিয়েই চুপ হয়ে গেছেন।
মূলতঃ তাদের সাথে যোগসাজশ করেই প্রভাবশালী দখলদাররা দখলের মহোৎসব চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ পাউবো কর্মকতার্রা শুধুমাত্র লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে প্রভাবশালী দখলদারকে জমি দখলে সুযোগ করে দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সিদ্দিক হাওলাদার ও মোস্তফা বিশ্বাস জানান, আমরা এখানে তিন যুগের বেশি সময় ধরে বসবাস করতেছি। এই জমি আমাদেরই দখলে। এই জমিতে সমুদ্র থেকে লবন পানি ঢুকে সমস্যা হয় এজন্য সামান্য মাটি কাটছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার এসে দেখে গেছেন। এতে কোন ক্ষতি নেই বলে গেছেন।
পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী-আমতলী উপজেলা সমন্বায়ক আরিফ রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাউবোর জমি বা ভেরীবাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলো মূলতঃ প্রাকৃতিক দুযোর্গ থেকে রক্ষার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে।
সেখানে খননযন্ত্র ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খনন করে মাছের ঘের তৈরি করায় ভেরীবাঁধের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে এবং লবন পানি অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। যেখানে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জলাশয় বা সরকারি জমি রক্ষায়, সেখানে প্রভাবশালীরা আইনকে তোয়াক্কা না কওে সরকারী জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করছেন। এটি জনস্বার্থের চরম পরপিন্থী।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে কর্মকতার্দের যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সংবাদ পেয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জলাশয় বা সরকারি জমি রক্ষায়। প্রভাবশালীরা আইন অমান্য করে পুনঃরায় মাটি কাটার কাজ পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









