কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ব্রয়লার, সোনালী, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মুরগির বাজারে এক ধরনের অস্বস্তিকর প্রভাব পড়েছে। ক্রেতা সাধারণ এনিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করছেন। স্থানীয় দোকানিরা চাহিদা কম থাকার কথা বলেছেন। পাইকারিভাবে দাম বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে খামারিদের কাছে মুরগি নেই। অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ সোমবার কলাপাড়া পৌরশহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কমে। একইভাবে কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। যা ছয়-সাতদিন আগে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৩২০ টাকা দরে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি দরে। যা বিক্রি হতো ৫০০ টাকা দরে।
কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় এসব মুরগি আবার আরো ১০-২০ টাকা কম-বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামের বাজার গুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ২১০ টাকা কেজি দরে। সরবরাহ কম। পাইকারি দাম বেড়েছে এসব কারণ বলছেন। তারা এও বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট অব্যবস্থাপনা রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। তেলের সংকটে পরিবহনখাতে খরচ বাড়ছে। মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে। সবধরনের ব্যয় বেড়েছে।
তবে গ্রামের মানুষের দাবি হাঁসের মৌসুমী ডার্কপ্লেগ রোগে মরক লেগেছিল। একইভাবে মুরগির বাচ্চাও মারা গেছে। তারপরে শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফিড, প্রতিশোধক ভ্যাকসিনসহ উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। খামারিরা লোকসানের কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
পারিবারিকভাবে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার ২০-২৫ থেকে ৫০টি হাঁস-মুরগি যারা পালন করেছেন। তার একাংশ বিভিন্ন ধরনের ফ্লুতে মারা গেছে। নেই স্থানীয়ভাবে কোন সরবরাহ। তাই বাজার সচল রাখতে যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুরগি আনতে হয়।
খুচরা বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরবরাহ অনেক কমে গেছে। পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, হঠাৎ এভাবে মুরগির দাম বাড়ার কারণ বুঝতে পারছেন না।
খামারি ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন জানান, তাঁদের খামারে অন্তত পাঁচ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। মুরগি বিক্রি করেন না। ডিম বিক্রি করেন, পিস আট টাকা করে। তবে ফাওমি জাতের মুরগি তিনি ২৮০ টাকা করে পাইকারি বিক্রি করেন। যা আগে ছিল ২৬০ টাকা। তিনিও জানালেন, মুরগির খাবারের দাম বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৭৫ টাকা বেড়ে গেছে।
মিশ্রিপাড়া গ্রামের খামারি মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘কোন হিসাব মেলে না। ডান-বাম কিছুই থাকে না। ফিডের দাম বেড়েছে। খরচ দিনকে দিন বাড়ছে। ডিমের দাম কমলেও মুরগির খাবারের দাম কমেনি।’ মানুষটি হতাশ হয়ে পড়েছেন। সহস্রাধিক লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন মো. মারুফ বিল্লাহ জানান, কলাপাড়ায় অন্তত পাঁচটি লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। এছাড়া ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির ছোট-বড় ২৫০-৩০০টি খামার রয়েছে। তবে লেয়ার মুরগির খামারগুলো অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। ডিমের জন্য দুই চারটি চালু রয়েছে। মাংসের জন্য বিক্রির খামার (লেয়ার) নেই বললেই চলে। ফিডের দাম বাড়ায় খামারিরা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
এছাড়া কৃষকের অসেচতনতায় যথাযথভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ না করায় দেশি জাতের অসংখ্য হাসঁ-মুরগি বিভিন্ন রোগে (ফ্লুতে) মারা পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর অতিরিক্ত খাঁজনা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।









