আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে তালাকপ্রাপ্ত নারী টেইলারকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী নারী।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ ওসমান গনি মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউঠা গ্রামের বাসিন্দা মো: শামসু চৌকিদারের ছেলে মোঃ মামুন চৌকিদার (৩৫)।
বাদীর অভিযোগে থেকে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী তালাকপ্রাপ্ত হয়ে সোনাউঠা গ্রামে রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে টেইলারিংয়ের কাজ করছেন। বাদী বিবাদীর দোকানের পাশেই মামুন ফার্মেসি দেয়। মামুনের বাবা ইউনিয়নের চৌকিদার। ভুক্তভোগী নারীকে রিলিফের চাল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মামুন নারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। মামুন প্রায়ই ওই নারীর দোকানে যেত।
প্রথম ঘটনার দিন গত বছরের ২৭ আগস্ট বেলা অনুমান ২টার সময় ওই নারী তার দোকানের পেছনের বারান্দায় বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই ফাঁকে মামুন নারীর দোকানে ঢুকে নারীর বিছানায় বসে নারীর শরীরে হাত দিয়ে স্পর্শ করে। এমন সময় নারীর ঘুম ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে সে চিৎকার দেয়। মামুন নারীর মুখ চেপে ধরে বিছানায় চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মামুন নারীকে গলা টিপে খুনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে। নারীকে মামুন বলে যায়, ধর্ষণের কথা কারো কাছে বললে ভিডিও ভাইরাল করে দেবে।
ভুক্তভোগী ওই ভিকটিম নারী বলেন, ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখায় ও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে মামুন আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের ফলে আমি অন্তঃসত্ত্বা হলে মামুনকে বিয়ে করতে বলি। মামুন আমার সন্তান নষ্ট করতে বলে। আমি রাজি না হলে মামুন বলে সন্তান নষ্ট না করলে বিয়ে করবে না। মামুনের কথামতো তার দেওয়া ওষুধ খেয়ে আমার রক্তপাত শুরু হয়। আমি গুরুতর অসুস্থ হলে আমতলীর পূর্ণিমা নামের এক মহিলার নিকট আমাকে নিয়ে মামুন আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে।
কিছুদিন পর চলতি মাসের ৮ এপ্রিল বিকাল ৩টার সময় মামুন আমার দোকানে এসে বলেন, তোমার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা আছে। মামুন আমাকে নিয়ে আমার দোকানের বারান্দায় যায়। মামুন বলেন, আগামী শুক্রবার সন্ধ্যার পরে আমি হুজুর নিয়ে আসব। আমাদের বিয়ে হবে। কথা বলার শেষ হলে মামুন আবার আমার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চায়। আমি রাজি না হলে আগের মতো জোরপূর্বক মামুন আমাকে ধর্ষণ করে।
একদিন পরে আমি মামুনের দোকানে গিয়ে বলি, শুক্রবার সন্ধ্যার পরে বিয়ে হলে সেখানে কে কে থাকবে। এ সময় মামুন বলে, আমার পক্ষে বিয়ে সম্ভব নয়। আমার স্ত্রী বাড়িতে আছে। তিনি আরো বলেন, আমি ঘটনাটি আমার আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মামুনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে সে রিসিভ না করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।









