দক্ষিণের জনপদের স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে পদ্মা সেতু। তবে এই সুফলের পথে এখন বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত সংকীর্ণ মহাসড়কটি। পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সাথে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হলেও, রাস্তার তুলনায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং সরু পথের কারণে এই রুটটি এখন অনেকটা ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ঝরছে তাজা প্রাণ। এমতাবস্থায় সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি তুলেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ যাত্রীরা।
পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সরাসরি আসা বিলাসবহুল দূরপাল্লার বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভিড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে ছোট যানবাহনের।
অধিকাংশ স্থানে সড়কের প্রস্থ মাত্র ১৮ থেকে ২৪ ফুট, যা দুটি বড় বাসের পাশাপাশি অতিক্রমের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।এই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে বিপজ্জনক সব বাঁক, যা দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ এই পথে চালকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার না থাকায় ক্লান্তিবোধ থেকেও ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা অংশে দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আমতলী, পটুয়াখালী এবং বাকেরগঞ্জ অংশে প্রায় প্রতি মাসেই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তা ছোট হওয়ায় বড় গাড়িগুলো ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দ্রুত আসা গেলেও, বাকি পথটুকু পাড়ি দিতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানজট ও দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক পর্যটকই এখন কুয়াকাটা বিমুখ হচ্ছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি মেগা প্রকল্প দীর্ঘ দিন ধরে প্রক্রিয়াধীন। জমি অধিগ্রহণ এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন করার প্রাথমিক কাজ শুরু করে সড়ক ও সেতু বিভাগ। ২০১৮ সালে প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পর অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় তোলা হয়। ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। ভাঙ্গা- বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ‘ভূমি অধিগ্রহণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ২০২৫ সালের ৭ মে ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন করার ঘোঘণা দেন। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা ও বরিশালে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন করার দাবিতে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। এছাড়া পায়রা বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।এলাকাবাসী এবং পরিবহন মালিক সমিতির দাবি, পদ্মা সেতুর পূর্ণ সুফল পেতে হলে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে করার কোনো বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয় নি।









