পোষ্য কুকুর হারানোর শোক থেকেই জন্ম নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। ‘স্যান্ডি’ নামের একটি পোষা কুকুরের স্মরণে প্রায় ৩০০ পথকুকুরের জন্য রান্না করা ভাত ও মাংসের খিচুড়ি বিতরণ করেছেন আতিকুল রহমান রনিক নামের এক যুবক।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এ খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।
পটুয়াখালীর পৌর শহরের লঞ্চঘাট, মিঠাপুকুরপাড়, বাধঘাট ও ঝাউতলাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
আতিকুল রহমান রনিক বলেন, প্রায় সাত বছর আগে ঢাকা থেকে একটি বিদেশি জাতের কুকুরের ছানা এনে সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি আমরা । ভালোবেসে নাম রাখেছি ‘স্যান্ডি’। তিন মাস আগে সপরিবারে বাড়ি থেকে অন্যত্র বেড়াতে গিয়েছিলাম।
এ সময় স্যান্ডিকে এক প্রতিবেশীর কাছে দত্তক রেখেছিলাম। স্যান্ডি অসুস্থ হওয়ার পর আমার প্রতিবেশীরা বিষয়টি আমাকে জানায়নি। তবে, সঠিক খাবার ও চিকিৎসার অভাবে গত মঙ্গলবার মারা যায় স্যান্ডি। ওকে হারানোর বেদনা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। আমিসহ আমার পরিবারের সবাই শোকাহত।
এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’র সদস্য উৎস দত্ত বলেন “আমরা প্রায়ই বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের মাঝে খাবার বিতরণ করি। আজ এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এলাকার রনিক ভাইয়ের পালিত একটি বিদেশি কুকুর মারা যাওয়ার পর তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ৩০০ কুকুরের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার বিতরণে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।”
এনিমেল লাভার অব পটুয়াখালী সংগঠনের পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, কুকুরকে হারানোর শোক থেকেই পটুয়াখালীতে ফিরে এসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন রনিক ভাই ও তার পরিবার। তাদের পোষা কুকুরের স্মরণে প্রায় ৩০০ পথকুকুরকে ভাত ও মাংসের খিচুড়ি খাওয়ানোর আয়োজন করেন তারা। নিজ হাতে রান্না করা খাবার অটোরিকশায় করে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পথকুকুরের মাঝে বিতরণ করেছেন।
তার এই মহৎ কাজে সহযোগিতা করেছে ‘এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’ সংগঠনের সদস্যরা। এটা ভালো উদ্যোগ। তবে পোষা কুকুরের মৃত্যু থেকে জন্ম নেওয়া এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আমি আগে দেখিনি।









