পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে কাল। লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াছিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের (জেড–৮৮০৬) ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য রামনাবাদ সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, এমপি।
পটুয়াখালী সড়ক ও জননপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জামিল আক্তার লিমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রামনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। সেতুটিতে মোট ১৯টি স্প্যান এবং ২০টি পিয়ার থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি স্প্যান ৪২ দশমিক ৬৮ মিটার পিসি গার্ডার এবং ১টি ১০০ মিটার স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান থাকবে, যাতে নদীতে নৌযান চলাচল সহজ হয়। সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স থাকবে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার এবং নির্মাণে মোট ২১৪টি পাইল ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে হরিদেবপুর প্রান্তে প্রায় ৫০০ মিটার এবং গলাচিপা প্রান্তে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক থাকবে।
প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৭। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা ও ওহিদুজ্জামান চৌধুরী (এমএনও) জেডি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, রামনাবাদ নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। এই সেতুটি চালু হলে তিন উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে ফেরিবিহীন যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে রামনাবাদ নদী পারাপারে ফেরি ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে এম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পারাপারে ঝুঁকি ও ভোগান্তি বেড়ে যায়। ফলে সেতুটি নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল নদী পাড়ে নিয়ে এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।









