ঋতু পরিবর্তনের পালায় মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে পটুয়াখালীতে রোদ আর ভ্যাপসা গরম ছিল। আর এই গরমের স্বস্তি মেটাতে বাজার ছেয়ে গেছে রসালো তরমুজে। তবে মাঠের হাসিমাখা এই তরমুজ চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক শিলাবৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়া আর ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মাঠেই পচছে তরমুজ
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ মূলত বালুময় বা দোআঁশ মাটির ফসল, যা অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। কালবৈশাখীর প্রভাবে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় তরমুজের গোড়া পচে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় শিলাবৃষ্টির কারণে তরমুজের গায়ে ছিদ্র বা ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, যা থেকে দ্রুত পচন ধরছে। এতে বাজারে ফলের গুণমান যেমন কমছে, তেমনি চাষিরা ন্যায্য দাম পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি তরমুজের মিষ্টতা কমিয়ে দেয়। ফল পাকার সময় বা সংগ্রহের ঠিক আগে বেশি বৃষ্টি হলে তরমুজে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ভেতরের সুগার বা মিষ্টির ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। এর ফলে তরমুজ পানসে বা স্বাদহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া, অতিরিক্ত পানিতে ক্ষেত তলিয়ে গেলে তরমুজ ফেটে যেতে পারে।
চাষিদের আর্তনাদ
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এ বছর ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে এসে ঝড়ের কবলে পড়ে অনেক খেত লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
দ্রুত নিষ্কাশন: খেত থেকে দ্রুত পানি বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাছাইকরণ: পচন ধরা বা ফেটে যাওয়া তরমুজ দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে যাতে সুস্থ ফলে সংক্রমণ না ছড়ায়।
ছত্রাকনাশক: বৃষ্টি থামার পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাজার প্রভাব
মাঠ পর্যায়ে ফলন নষ্ট হওয়ায় খুচরা বাজারে তরমুজের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ কমে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের চড়া দামে এই গ্রীষ্মকালীন ফলটি কিনতে হতে পারে।
পটুয়াখালীতে এবার ৩০০ কোটি টালার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ সামলে তরমুজ চাষিরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।









