কলাপাড়া প্রতিনিধি: ফেসবুক স্ট্যাটাসে কমেন্টস দেওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষের মারধরের কারণে আহত ইদ্রিস খানের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহতের নিকটাত্মীয় আবুবকর খান মঙ্গলবার রাতে কলাপাড়া থানায় এই মামলাটি করেছেন। মামলা নং-৪। মামলায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম কে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া আরো ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজান এ খবর নিশ্চিত করেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার এই ঘটনাটি এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয়ে পরিনত হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার পাখিমারা বাজারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এই হত্যাকে পরিকল্পিত দাবি করে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার চেয়েছেন।
এর আগে কলাপাড়ায় দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামে বাসীন্দা ইদ্রিস খানের মৃতদেহ পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকালে থানায় নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাকালে ইদ্রিস খান মারা গেছেন।
নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুনের অভিযোগ, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা জহিরুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা মারধর করায় তার স্বামী আহত হয়ে মারা গেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতের ঘটনা।
কলাপাড়া থানার এসআই মো. মিজান জানান, মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ইদ্রিস খানের লাশ তার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আমেনা খাতুন জানান, তার স্বামী ঢাকায় কাজ করতেন। সংসদ নির্বাচনের আগে তার ফেসবুক আইডিতে “ দিনে খিচুড়ি খায়, রাতে গরু চুরি করে” এমন একটা পোস্ট শেয়ার করেন। কমেন্ট করেন। এ ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে পাখিমারা বাজারে নিয়ে মারধর করেন। পাখিমারা ক্লাবে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। প্রথমে জহিরুল ইসলাম পানি খাওয়ার জগ তার স্বামীর গায়ে ছুড়ে মারেন। এরপরে তার সহযোগিরা এলোপাথাড়ি মারধর করে।
আমেনা খাতুন আরো জানান, তার স্বামী হাত-পা ধরে মাপ চেয়েছেন। তারপরও মারধর করা হয়। সেখান থেকে তাকে আহত অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যান। সোমবার রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মারা গেছেন।
অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জানান, সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকার যুবক শ্রেণির অংশগ্রহণে রাতে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন চলছিল। সেখানে আমার একটা সংক্ষিপ্ত ভিডিও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে ইদ্রিস খান একটা নেতিবাচক কমেন্ট করেন। এনিয়ে আমার কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না। তারপরও দৌলতপুর গ্রামের মেম্বার কালাম ডাক্তারকে কে সঙ্গে নিয়ে ইদ্রিস খান তার স্বজনসহ আনুমানিক সাত/আটদিন আগে পাখিমারা অফিসে আসেন। তারা অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের উদ্যোগে ভুল স্বীকার করেন।
এক পর্যায়ে ইদ্রিস খানের এক আত্মীয় শাহজাহান খান তাকে কয়েক টা চড় থাপ্পড় দেন। আমি তাদের কে তখন ধমক দেই। এরপর সবাই চলে গেছে। আর কিছু তিনি জানেন না। তবে মৃত ব্যক্তি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন বলে জানান জহিরুল ইসলাম।
কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









