জাতীয় সংসদের ১১৪ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন-কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মহিপুর প্রেসক্লাব-এ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহিপুর নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মিজানুর রহমান রিপন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেনকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি এই জনপদের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য না থাকাকালীন সময়েও এবিএম মোশাররফ হোসেন নিজ উদ্যোগে তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহযোগিতায় এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কুয়াকাটায় বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বালিয়াতলী-বাবলাতলা-আলীপুর সড়কের উন্নয়ন, লোন্দা-ধানখালী সড়ক উন্নয়ন, কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের তিনটি সেতু প্রকল্প একনেকে অনুমোদন, কলাপাড়া হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, নারী শিক্ষার উন্নয়নে কলাপাড়ায় মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও এমপিওভুক্তকরণ তার উল্লেখযোগ্য অবদান।
এছাড়া বক্তারা বলেন, তৃণমূল থেকে উঠে এসে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা এবং জাতীয় টেলিভিশন টকশোতে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর স্নেহধন্য হওয়ায় তিনি কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন, হলিডে হোমস ভবন প্রতিষ্ঠা এবং পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগামী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আস্থাভাজন হওয়ায় এবিএম মোশাররফ হোসেন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে এই উপকূলীয় জনপদের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
বক্তারা জানান, পটুয়াখালী-৪ আসনটি দুই উপজেলা, তিনটি থানা ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ অঞ্চলে রয়েছে শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, পায়রা সমুদ্র বন্দর, ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, রাডার স্টেশন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, কৃষি ও মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মা ইলিশের অভয়াশ্রম এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।
তারা বলেন, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটননির্ভর এই জনপদকে অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তরের জন্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের মতো অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বকে যে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি সফলতার সঙ্গে তা পালন করতে সক্ষম হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অতীতে এই আসন থেকে দুইজন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে মহিপুর নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি এ জনপদের ন্যায্য দাবি জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।









