পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে দেখা দিয়েছে বরফের সংকট। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বরফকলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ইলিশের ভরা মৌসুমেও বরফের অভাবে সাগরে যেতে পারছেন না শত শত মাছধরা ট্রলার।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবি, আগে এক ক্যান বরফ ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় উঠেছে। দাম বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী বরফ মিলছে না। এতে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক ট্রলার ঘাটে অলস পড়ে আছে।
কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকার জেলে আলী মাঝি বলেন, আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও এখন ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে বরফ উৎপাদন কমে গেছে। ১৫০ টাকার বরফ এখন ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দিয়েও কিনতে হচ্ছে।
ট্রলার মালিক সুমন মিয়া বলেন, সাগরে মাছ কম থাকলেও জীবিকার তাগিদে ট্রলার নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু বরফ না পাওয়ায় ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছেন না। এতে জেলেরা ঘাটে বসে থাকছেন এবং প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মহিপুরের একটি বরফকলের মালিক মো. মজনু গাজী জানান, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাও দুই-তিন ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে বরফ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বরফের দামও বাড়ছে। বর্তমানে জেলেদের চাহিদার এক-চতুর্থাংশ বরফও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, বরফ সংকটের কারণে পুরো মৎস্যবন্দরেই ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বরফের অভাবে জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় বন্দরে মাছও কম আসছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এ বছর মৎস্য খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার আব্দুর রহমান বলেন, কলাপাড়ায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে চাহিদার ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। মৎস্যবন্দরে বিকল্পভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরফের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মৎস্যবন্দরের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে বরফ বিক্রির বিষয়টিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এদিকে ইলিশের মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।









