হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার তালতলীতে ধানের শীষের পক্ষে শেষ নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার মালিপাড়া সালেহিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনী সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান।
তিনি বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে, তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী। তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
আমান উল্লাহ আমান আরো বলেন, দেশের মানুষ আর বর্তমান শাসনব্যবস্থা চায় না। জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ।
আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার আত্মীয়-স্বজনদের নিরাপদে পাঠিয়ে নিজেও ভারতে পালিয়ে গেছেন। এই দল করার আর কোনো প্রয়োজন নেই। যারা এতদিন আওয়ামী লীগ করতেন, তারাও এখন বুঝে গেছেন, ধানের শীষই দেশের ভবিষ্যৎ।
তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায় বিএনপি। তাই ভয়ভীতি ভুলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী ও বরগুনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, তালতলীর মানুষ বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এবারও ভোটের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে সরকার গঠন বিএনপিই করবে, তাই এই বরগুনা- ১ (সদর- আমতলী- তালতলী) আসনে বিএনপির এমপি না হলে তালতলী উপজেলার উন্নয়ন সম্ভব না। সবাই দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিবেন।
ওই সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সবাই আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বরগুনা-১ (সদর- আমতলী- তালতলী) দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।









